চুম্বক কী? (পাঠ ৯– ১০)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বিজ্ঞান - বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ঘটনা | NCTB BOOK
455
Summary

প্রাচীন গ্রিসের ম্যাগনেশিয়া নামক স্থানে ম্যাগনাস নামে এক রাখাল বালক তার লাঠির মাথায় পড়া একটি পাথর আবিষ্কার করে যা লোহাকে আকর্ষণ করে। ম্যাগনাসের নামানুসারে এই পাথরের নাম হয় ম্যাগনেট, বা চুম্বক।

চুম্বকের ধর্ম পরীক্ষার জন্য কিছু উপকরণ প্রয়োজন: সাদা কাগজ, লোহার গুড়া, আলপিন এবং একটি দণ্ড চুম্বক।

পদ্ধতিঃ

  • একটি সাদা কাগজে লোহার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন।
  • চুম্বকটি গুঁড়ার উপর নাড়াচাড়া করলে দেখতে পাবেন, লোহার গুঁড়া বা পিন চুম্বকের দুই প্রান্তে আটকে আছে।
  • এটি চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, দুই প্রান্তে আকর্ষণের পরিমাণ বেশি।

পরবর্তীতে দুটি চুম্বককে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে রাখলে উভয় চুম্বকই উত্তর-দক্ষিণ দিকে স্থির হয়ে থাকে।

যখন সমমেরু (উত্তর-উত্তর বা দক্ষিণ-দক্ষিণ) চুম্বক নিকটবর্তী হয়, তখন তারা একে অপরকে বিকর্ষণ করে। বিপরীত মেরু (উত্তর-দক্ষিণ বা দক্ষিণ-উত্তর) থাকলে, তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে।

সুতরাং, চুম্বকের সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।

প্রচলিত আছে যে, প্রাচীন গ্রিসে ম্যাগনেশিয়া নামক প্রদেশে ম্যাগনাস নামে এক রাখাল বালক বাস করত। সে সারা দিন মাঠে মাঠে মেষ চড়াত ও সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরতো। একদিন বাড়ি ফেরার সময় ম্যাগনাস তার লাঠিটি মাটি থেকে তুলতে গিয়ে দেখলো লাঠিটি উঠানো যাচ্ছে না, লাঠির মাথা একটি পাথরের সাথে আটকে আছে। সে লক্ষ্য করে দেখলো লাঠির মাথার লোহাটিকে পাথরটি টেনে ধরে আছে। অর্থাৎ ম্যাগনাস দেখলো লোহা এই অচেনা পাথরটিকে আকর্ষণ করছে। ম্যাগনাসের নামানুসারে এই পাথরের নাম করা হল ম্যাগনেট। ম্যাগনেটের বাংলা প্রতিশব্দ হলো চুম্বক। আমরা এও দেখতে পেলাম, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে। আকর্ষণ এক প্রকার বল। বল দিয়ে কাজ করা যায়। অতএব, চুম্বকের কাজ করার সামর্থ্য আছে।

চুম্বকের ধর্ম

কাজ: চুম্বকের ধর্ম।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: সাদা কাগজ, লোহার গুড়া, আলপিন ও একটি দণ্ড চুম্বক।

পদ্ধতি: টেবিলের উপর একটি সাদা কাগজে কিছু লোহার গুঁড়া ঘন করে ছিটিয়ে দাও। লোহার গুঁড়া বা আলপিনের উপর এবার দন্ড চুম্বকটিকে কয়েকবার নাড়াচাড়া করে উঠিয়ে ফেল। কী দেখতে পাচ্ছো? দেখা যাচ্ছে, লোহার গুঁড়া বা পিন, চুম্বকের গায়ে লেগে আছে। ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখতে পাবে লোহার গুঁড়া বা পিন বেশির ভাগই চুম্বকটির কেবলমাত্র দুই প্রান্তে আটকে আছে। প্রান্ত থেকে যতই মাঝের দিকে যাওয়া যাবে, ততই লোহার গুঁড়াবা পিনের পরিমাণ কমতে থাকে। হয়ত মাঝখানে কোনো পিন বা লোহার গুঁড়াকে দেখছ না। এর থেকে বুঝা যায় চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা দুই প্রান্তে সবচেয়ে বেশি।

এবার দুটি একই জাতীয় দণ্ড চুম্বককে পরস্পরের কাছাকাছি আনো। তুমি জানো না কোনটা কোন মেরু। তাদেরকে প্রথমে একটি সুতা দিয়ে মাঝখানে বেঁধে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দাও। কী দেখছো? চুম্বকটি মুক্তভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় উত্তর-দক্ষিণ দিক করে স্থির হয়ে আছে। অন্য চুম্বকটিকে একই ভাবে ঝুলিয়ে দাও। দেখবে একই ভাবে চুম্বকটিও মুক্তভাবে উত্তর-দক্ষিণ দিক করে স্থির হয়ে আসবে। এর থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, মুক্তভাবে ঝুলন্ত চুম্বক সর্বদা উত্তর-দক্ষিণমুখী হয়ে স্থির থাকে।

এবার আমরা দন্ড চুম্বক দুটিকে N এবং S দ্বারা যথাক্রমে উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু চিহ্নিত করি। এবার প্রথম চুম্বকটির উত্তর মেরুকে দ্বিতীয় চুম্বকের উত্তর মেরুর কাছে আনো। কী দেখছো? বিকর্ষণ করছে। একইভাবে প্রথম চুম্বকটির দক্ষিণ মেরু দ্বিতীয় চুম্বকের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি আনো। একই ঘটনা ঘটছে? হ্যাঁ, বিকর্ষণ করছে। এর থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, দুটি সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।

এবার প্রথম চুম্বকের উত্তর মেরুকে দ্বিতীয় চুম্বকের দক্ষিণ মেরুর কাছে আনো। কী দেখছো? একই ভাবে দ্বিতীয় চুম্বকের উত্তর মেরুকে প্রথম চুম্বকের দক্ষিণ মেরুর কাছে আনো। এরা পরস্পরকে খুব সহজেই কাছে টেনে নিয়েছে। এটা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। সুতরাং চুম্বকের সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...